পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং, রিমোট জব কিংবা আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে রোজগার করা ডলার নিরাপদে দেশে আনার সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম হলো পেওনিয়ার (Payoneer)।

আন্তর্জাতিক ট্রানজেকশন এবং লোকাল ব্যাংকে সরাসরি টাকা উইথড্র করার সুবিধার কারণে প্রতিটি ফ্রিল্যান্সারের জন্য একটি ভেরিফাইড payoneer account থাকা অত্যন্ত জরুরি।

তবে সঠিক তথ্য না জেনে একাউন্ট খুলতে গেলে অনেক সময় verification problem বা একাউন্ট ব্লক হওয়ার মতো নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।

আজকের এই আর্টিকেলে আমরা বাংলাদেশ থেকে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

পেওনিয়ার (Payoneer) কি এবং কেন এটি ব্যবহার করবেন?

পেওনিয়ার হলো একটি বিশ্ববিখ্যাত আমেরিকান ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস কোম্পানি, যেটা অনলাইন মানি ট্রান্সফার এবং ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রদান করে থাকে।

বিশ্বের বিভিন্ন জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস যেমন: Upwork, Fiverr, Freelancer, 99designs ইত্যাদি থেকে পেমেন্ট নেওয়ার জন্য পেওনিয়ার সবচেয়ে বিশ্বস্ত একটি মাধ্যম।

এর মাধ্যমে আপনি মার্কিন ডলার, ইউরো, পাউন্ডসহ বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রায় পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, পেওনিয়ার থেকে সরাসরি বাংলাদেশের যেকোনো ব্যাংক একাউন্টে বা বিকাশে খুব সহজেই টাকা ট্রান্সফার করে নেওয়া যায়।

জেনেনিন:

পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে?

একটি নতুন পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা এবং ভেরিফাই করার জন্য আগে থেকেই কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্য আপনাকে গুছিয়ে রাখতে হবে।

আপনার কাছে যদি সঠিক documents না থাকে, তাহলে একাউন্ট ভেরিফিকেশনে জটিলতা তৈরি হতে পারে।

আসুন দেখে নেওয়া যাক পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে কি কি লাগে:

  • জাতীয় পরিচয়পত্র: আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID Card), পাসপোর্ট (Passport) অথবা ড্রাইভিং লাইসেন্স (Driving License)।
  • ব্যাংক অ্যাকাউন্ট: যেকোনো একটি বাংলাদেশী লোকাল ব্যাংক যেমন: Dutch-Bangla, Islami Bank, Brac Bank এর একাউন্টের তথ্য।
  • ইমেইল এড্রেস: পেমেন্ট নোটিফিকেশন ও OTP পাওয়ার জন্য একটি অ্যাক্টিভ ইমেইল এড্রেস।
  • মোবাইল নম্বর: একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন এবং two-factor authentication এর জন্য একটি ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর।
  • ঠিকানার প্রমাণপত্র: আপনার নামে থাকা ইউটিলিটি বিল যেমন: গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি বা ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে।

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার পূর্বে প্রয়োজনীয় সতর্কতা

অনলাইনে অনেকেই সঠিকভাবে তথ্য প্রদান না করার কারণে একাউন্ট খোলার কিছুদিনের মধ্যেই সাসপেন্ড হয়ে যায়।

তাই account registration প্রক্রিয়া শুরু করার আগেই কিছু বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

প্রথমত, আপনার জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্টে নাম যেভাবে ইংরেজি বানানে লেখা আছে, ঠিক সেভাবেই নাম পূরণ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, একটি NID দিয়ে কেবল একটিমাত্র payoneer account খোলা যাবে, একটি এনআইডি কার্ড দিয়ে একাধিক অ্যাকাউন্ট তৈরির চেষ্টা করবেন না।

সবশেষে, আপনার ব্যাংক একাউন্টের নাম এবং পেওনিয়ার একাউন্টের নাম সম্পূর্ণ একই হতে হবে, অন্যথায় ব্যাংক উইথড্রাল বাতিল হয়ে যাবে।

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ (একাউন্ট খোলা ও ভেরিফিকেশন পদ্ধতি)

বাংলাদেশে বসে সঠিকভাবে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার জন্য আপনাকে কয়েকটি নির্দিষ্ট ধাপ পার হতে হবে।

নিচে পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম ধাপে ধাপে উল্লেখ করা হলো:

ধাপ ১: পেওনিয়ার অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ

সবচেয়ে প্রথমে আপনার কম্পিউটার বা মোবাইলের যেকোনো একটি ব্রাউজার থেকে পেওনিয়ারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে হবে।

এরপর হোমপেজে থাকা ‘Register’ বাটনে ক্লিক করে রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে।

ধাপ ২: একাউন্টের ধরন বা ক্যাটাগরি নির্বাচন

সাইন আপ বাটনে ক্লিক করার পর পেওনিয়ার আপনাকে জিজ্ঞাসা করবে আপনি কোন ক্যাটাগরিতে একাউন্ট খুলতে চান।

আপনি যদি ফ্রিল্যান্সিং বা রিমোট কাজ করে থাকেন, তাহলে ‘Freelance or SMB’ অথবা ‘Individual’ অপশনটি বেছে নিতে পারেন।

এরপর ‘Get Paid by international clients or freelance marketplaces’ অপশনে ক্লিক করে সামনের দিকে এগিয়ে যান।

ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য প্রদান (Personal Details)

এই ধাপে আপনার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো খুব সাবধানে এবং NID কার্ড অনুযায়ী পূরণ করতে হবে।

এখানে আপনাকে First Name, Last Name, Email Address এবং Date of Birth সঠিকভাবে লিখতে হবে।

মনোযোগ দিয়ে লক্ষ্য রাখবেন যেন আপনার এনআইডি কার্ডের ইংরেজি বানানের সাথে পেওনিয়ারে দেওয়া বানানের কোনো অমিল না থাকে।

ধাপ ৪: ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর (Contact Details)

পরবর্তী পেজে আপনার বর্তমান ঠিকানা, শহর, Postal Code এবং মোবাইল নম্বর প্রদান করতে হবে।

মোবাইল নম্বর দেওয়ার পর ‘Send Code’ বাটনে ক্লিক করলে আপনার মোবাইলে একটি ভেরিফিকেশন কোড (OTP) আসবে।

প্রাপ্ত কোডটি নির্দিষ্ট ঘরে বসিয়ে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার জন্য ‘Next’ বাটনে ক্লিক করবেন।

ধাপ ৫: সিকিউরিটি ও পাসওয়ার্ড সেটআপ (Security Details)

এই ধাপে আপনার একাউন্টের সুরক্ষার জন্য একটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করতে হবে।

এখানে একটি Security Question নির্বাচন করে সেটির উত্তর আপনাকে লিখে দিতে হবে এবং এই তথ্যটি কোথাও নিরাপদ স্থানে নোট করে রাখবেন।

একই সাথে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর (ID Number) অথবা পাসপোর্টের নম্বরটি সঠিক ঘরে বসিয়ে দিতে হবে।

ধাপ ৬: লোকাল ব্যাংক তথ্য সংযোজন (Almost Done)

একাউন্ট খোলার শেষ ধাপে আপনাকে বাংলাদেশের একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ প্রদান করতে হবে।

এখানে দেশ হিসেবে ‘Bangladesh’ এবং কারেন্সি হিসেবে ‘BDT’ সিলেক্ট করবেন।

এরপর আপনার ব্যাংকের নাম (Bank Name), ব্রাঞ্চের নাম (Branch Name) এবং সঠিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরটি দিতে হবে।

সব তথ্য সঠিকভাবে দেওয়ার পর Terms & Conditions এ টিক চিহ্ন দিয়ে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করবেন।

পেওনিয়ার একাউন্ট ভেরিফিকেশন করার উপায়

একাউন্ট সাবমিট করার পর আপনার কাজ কিন্তু শেষ নয়, একাউন্টটি ব্যবহারযোগ্য করতে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে।

আপনার পেওনিয়ার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন শেষ হওয়ার সাথে সাথে আপনার ইমেইলে একটি verification link পাঠানো হবে।

আপনার ইমেইল এর inbox খুলে Verify My Email বাটনে ক্লিক করে ইমেইল এড্রেসটি confirm করে নিতে হবে।

এরপর পেওনিয়ার ড্যাশবোর্ডে লগইন করে Settings থেকে Verification Center এ প্রবেশ করতে হবে।

সেখানে আপনার জাতীয় পরিচয়পত্রের স্পষ্ট সামনের ও পেছনের ছবি আপলোড করতে হবে।

সব তথ্য সঠিক থাকলে সাধারণত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আপনার পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ ভেরিফাইড হয়ে যাবে।

অবশ্যই পড়ুন:

পেওনিয়ার টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করবেন যেভাবে

আপনার পেওনিয়ার একাউন্টের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হ্যাকিং থেকে মুক্ত রাখতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করাটা অত্যন্ত জরুরী।

এর জন্য আপনাকে পেওনিয়ার ড্যাশবোর্ড থেকে Security Settings এ গিয়ে টু-ফ্যাক্টর অপশনটি চালু করে নিতে হবে।

এর ফলে প্রতিবার লগইন করার সময় বা পেমেন্ট ট্রান্সফার করার সময় আপনার মোবাইলে ওটিপি কোড আসবে, ফলে আপনার একাউন্টটি সুরক্ষিত রাখবে।

পেওনিয়ার থেকে টাকা তোলার সেরা উপায়সমূহ

পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টে ডলার আসার পর সেই ডলার কীভাবে হাতে পাবেন, সেটা নিয়ে অনেকেরই প্রশ্ন থাকে।

বাংলাদেশি ইউজারদের জন্য পেওনিয়ার থেকে টাকা তোলার বেশ কয়েকটি সহজ এবং ফাস্ট মাধ্যম রয়েছে।

১. লোকাল ব্যাংক ট্রান্সফার

পেওনিয়ার থেকে টাকা তোলার সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নিরাপদ উপায় হলো সরাসরি বাংলাদেশের যেকোনো লোকাল ব্যাংকে টাকা ট্রান্সফার করা।

এজন্য পেওনিয়ার একাউন্টের ড্যাশবোর্ড থেকে Withdraw to Bank অপশনে গিয়ে টাকার পরিমাণ এবং ব্যাংক নির্বাচন করে সহজেই আপনি টাকা withdraw করে নিতে পারবেন।

এখান থেকে টাকা উইথড্র করার পর সাধারণত ১ থেকে ৩ কর্মদিবসের মধ্যে ব্যাংক একাউন্টে টাকা জমা হয়ে যায়।

২. সরাসরি বিকাশ (bKash) একাউন্টে টাকা আনা

বর্তমানে পেওনিয়ার এবং বিকাশের চুক্তির ফলে ফ্রিল্যান্সারদের বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস ওয়েবসাইট থেকে পেমেন্ট নেওয়ার পদ্ধতি অনেক সহজ হয়ে গেছে।

কেননা বিকাশ অ্যাপের ‘Remitance’ অপশনে গিয়ে সরাসরি আপনার পেওনিয়ার একাউন্ট connect বা link করা যায়।

লিঙ্ক করার পর বিকাশ অ্যাপ থেকেই যেকোনো সময় তাৎক্ষণিকভাবে পেওনিয়ারের ডলার টাকায় রূপান্তর করে আপনি নিজের বিকাশে নিয়ে আসতে পারবেন।

পেওনিয়ার একাউন্টের চার্জ ও ফি সমূহ

পেওনিয়ার সার্ভিস ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট চার্জ এবং ফি প্রযোজ্য হয়, যেগুলো সম্পর্কে ইউজারদের জেনে রাখা ভালো।

নিচে পেওনিয়ারের প্রধান প্রধান ফিগুলোর একটি সারণী দেওয়া হলো:

সেবার ধরনফি / চার্জের পরিমাণ
একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনএকদম ফ্রি ($0)
বার্ষিক একাউন্ট ফি (Annual Fee)$29.95 (যদি বছরে $2,000 এর কম লেনদেন হয়)
এক পেওনিয়ার থেকে অন্য পেওনিয়ারএকদম ফ্রি ($0)
লোকাল ব্যাংকে টাকা উইথড্র ফিসাধারণত ২% পর্যন্ত (Currency Conversion)
মাস্টারকার্ড অ্যানুয়াল ফি (ঐচ্ছিক)$29.95 / প্রতি বছর

পেওনিয়ার মাস্টারকার্ড (Payoneer Mastercard) কীভাবে পাবেন?

পেওনিয়ার আমাদের ভার্চুয়াল বা ফিজিক্যাল প্রিপেইড মাস্টারকার্ড ব্যবহারের সুযোগ প্রদান করে থাকে।

এই কার্ড ব্যবহার করে আপনি যেকোনো আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট থেকে কেনাকাটা, ডোমেইন-হোস্টিং কেনা বা ফেসবুকে কিংবা গুগলে এড রান করতে পারবেন।

তবে কার্ড অর্ডার করার জন্য আপনার পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টে বিগত ১২ মাসে অন্তত $100 পেমেন্ট রিসিভ হতে হবে।

আপনার পেওনিয়ার একাউন্টে প্রয়োজনীয় পরিমাণ ডলার ব্যালেন্স হওয়ার পর ড্যাশবোর্ডের Payoneer Cards অপশন থেকে ফিজিক্যাল কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

আবেদন করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে কার্ডটি পোস্ট অফিসের মাধ্যমে আপনার প্রদত্ত ঠিকানায় পৌঁছে যাবে।

পেওনিয়ার একাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ ভুলসমূহ ও সমাধান

নতুন ফ্রিল্যান্সাররা peyoneer ব্যবহার করার সময় কিছু ছোটখাটো ভুল করে থাকেন, যার কারণে একাউন্ট সাময়িকভাবে susoend হয়ে যেতে পারে।

প্রথমত, কখনোই ভিপিএন (VPN) অন রেখে পেওনিয়ার একাউন্টে লগইন করার চেষ্টা করবেন না।

দ্বিতীয়ত, নিজের এনআইডি দিয়ে তৈরি পেওনিয়ার অ্যাকাউন্টে অন্য কারো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করার চেষ্টা করবেন না।

তৃতীয়ত, ব্যক্তিগত বা পার্সোনাল লেনদেনের কাজে পেওনিয়ার ব্যবহার না করে শুধুমাত্র বাণিজ্যিক বা ফ্রিল্যান্সিং কাজের পেমেন্টে পেওনিয়ার একাউন্ট ব্যবহার করবেন।

এই নিয়মগুলো মেনে চললে আপনার একাউন্ট কখনো কোনো ঝুঁকির মুখে পড়বে না বলে আমি আশা করি।

কিভাবে পেওনিয়ার সাপোর্ট টিমের সাহায্য নেবেন?

একাউন্ট সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যায় বা ভেরিফিকেশন ঝুলে থাকলে আপনি পেওনিয়ারের কাস্টমার সাপোর্ট টিমের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন।

পেওনিয়ারের অফিশিয়াল Help Center থেকে Live Chat অথবা ইমেইলের মাধ্যমে সরাসরি তাদের সাপোর্ট টিমের সাথে কথা বলা যায়।

এছাড়াও তাদের ফোরাম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশিদের জন্য dedicated support system রয়েছে।

যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে কাস্টমার সাপোর্টে টিকিট ওপেন করলে ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান পাওয়া যায়।

পেওনিয়ার একাউন্ট বনাম অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ে

আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেওয়ার জন্য বাংলাদেশে আরও কিছু মাধ্যম থাকলেও পেওনিয়ার কেন সেরা, তার কিছু কারণ রয়েছে।

PayPal বাংলাদেশে অফিশিয়ালি এভেলেবল না থাকায় international payment নেওয়ার জন্য পেওনিয়ারই একমাত্র রিয়েল ও বিশ্বস্ত মাধ্যম।

অন্যান্য মাধ্যমের তুলনায় পেওনিয়ারের কারেন্সি কনভার্সন রেট এবং সার্ভিস ফি তুলনামূলক কম।

তাছাড়া বিকাশ ও লোকাল ব্যাংকের সাথে সরাসরি integration থাকায় এটি ব্যবহারে কোনো ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয় না।

পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার সময় যে সকল বিষয় মনে রাখা জরুরি

আপনার পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখা প্রয়োজন।

সবসময় চেষ্টা করবেন নিজস্ব ইন্টারনেট কানেকশন যেমন: নিজের ওয়াইফাই বা মোবাইল ডাটা ব্যবহার করে রেজিস্টার করতে।

পাবলিক ওয়াইফাই বা সাইবার ক্যাফে থেকে একাউন্ট খোলা বা লগইন করা সিকিউরিটির জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

আপনার পাসওয়ার্ড এবং সিকিউরিটি কোশ্চেনগুলো কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

FAQs – পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম বাংলাদেশ

১. পেওনিয়ার একাউন্ট খুলতে কি টাকা লাগে?

না, পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার জন্য কোনো ধরনের ফি বা টাকা লাগে না। এটি সম্পূর্ণ ফ্রিতে খোলা যায়।

২. এনআইডি ছাড়া কি পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা সম্ভব?

না, পেওনিয়ার একাউন্ট ভেরিফিকেশনের জন্য সরকারি কোনো ডকুমেন্টস যেমন: এনআইডি, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক।

৩. পেওনিয়ার থেকে বিকাশে টাকা আনতে কত সময় লাগে?

পেওনিয়ার থেকে বিকাশে টাকা আনলে তা মুহূর্তের মধ্যেই অর্থাৎ ইন্সট্যান্টলি আপনার বিকাশ ওয়ালেটে জমা হয়ে যায়।

৪. একই ডিভাইসে কি একাধিক পেওনিয়ার একাউন্ট ব্যবহার করা যাবে?

একটি ডিভাইসে একাধিক পেওনিয়ার একাউন্ট ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ, এতে সিকিউরিটি অ্যালার্টের কারণে দুটি একাউন্টই ব্লক হতে পারে।

৫. ব্যাংক একাউন্ট না থাকলে কি পেওনিয়ার একাউন্ট খোলা যাবে?

পেওনিয়ার একাউন্ট রেজিস্ট্রেশনের সময় একটি সচল ব্যাংক একাউন্টের তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক, তাই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা আবশ্যক।

শেষ কথা

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং করে উপার্জন করা ডলার নিরাপদে দেশে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে পেওনিয়ার খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আশা করি এই আর্টিকেলে দেখানো পেওনিয়ার একাউন্ট খোলার নিয়ম অনুসরণ করে আপনি নিজেই খুব সহজে একটি ভেরিফাইড পেওনিয়ার অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন।

যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করে জানাবেন।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *